বাসুদার চলে যাওয়াটা আমার পিতৃবিয়োগের চেয়ে কোনও অংশে কম না, প্রয়াত কিংবদন্তি পরিচালক বাসু চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণায় ফিরদৌস
নিজস্ব প্রতিনিধি : চলচ্চিত্র জগতে আবার ইন্দ্রপতন। প্রয়াত কিংবদন্তী পরিচালক এবং চিত্রনাট্যকার বাসু চট্টোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে জীবনাবসান হয় তাঁর। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।দীর্ঘ দিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালকের প্রয়াণে আরও একবার চোখের জলে ভাসল বলিউড।
১৯৩০ সালে রাজস্থানের অজমের শহরে জন্ম হয় এই প্রবাদপ্রতিম পরিচালকের।কেরিয়ার শুরু করেছিলেন চিত্রশিল্পী হিসেবে ম্যাগাজিনের অলঙ্করণের কাজে। ১৯৬৬ সালে বাসু ভট্টাচার্যের ‘তিসরি কসম’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় পথ শুরু বাসু চট্টোপাধ্যায়ের। ১৯৬৯ সালে 'সারা আকাশ' দিয়ে তাঁর প্রথম পরিচালনার যাত্রাপথ। এই ছবিতে সেরা চিত্রনাট্যের জন্য পেয়েছিলেন ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। সত্তর এবং আশির দশকে নিজস্ব পরিচালনায় বহু জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছিলেন তিনি।মধ্যবিত্ত জীবনের সুখ-দুঃখ,ভালোবাসার গল্প নিয়ে ফুটিয়ে তুলেছিলেন এক অন্য ঘরানার ছবি।সেইসময় সিনেজগতে ঋষিকেশ মুখোপাধ্যায় এবং বাসু ভট্টাচার্য ঘরানার যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে একটাই নাম ছিল বাসু চট্টোপাধ্যায়ের।তাঁর পরিচালিত জনপ্রিয় ছবিগুলি হল - 'ছোটি সি বাত', 'চিতচোর', 'রজনীগন্ধা', 'পিয়া কা ঘর', 'খট্টা মিঠা' , 'চক্রব্যূহ', 'বাতো বাতো মেঁ', 'প্রিয়তমা', 'মন পসন্দ', 'শৌকিন', 'চামেলি কি শাদি', 'উসপার ', 'আপনে পেয়ারে','জিনা ইহা' , 'এক রুকা হুয়া ফয়সলা' ,প্রমুখ। শুধু সিনেমা ক্ষেত্রে নয় , তাঁর পরিচালিত টেলিভিশন সিরিজ় ‘রজনী’ ও ‘ব্যোমকেশ বক্সী’ আজও দর্শকের কাছে সমান জনপ্রিয়। হিন্দি ছবির পাশাপাশি তিনি পরিচালনা করেছিলেন 'ত্রিশঙ্কু' ,' হচ্ছেটা কি?','টক ঝাল মিষ্টি', 'চুপিচুপি', 'হঠাৎ বৃষ্টি', 'হঠাৎ সেদিন' -এর মত বাংলা ছবিও ।
বর্ষীয়াণ এই পরিচালকের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন বলিউড থেকে টলিউড। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বাংলাদেশের অভিনেতা ফিরদৌস আহমেদ। পরিচালকের স্মৃতিচারণায় অভিনেতা জানান, 'বাবা-মা-র পরে আমার জীবনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল বাসু চ্যাটার্জির। উনি যদি 'হঠাৎ বৃষ্টি' ছবিটি না বানাতেন, হয়তো আমার অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন কোনওদিনই পূরণ হত না। তাহলে হয়তো আমি অন্য কোন প্রফেশনে অন্য মানুষ হিসেবে অন্য কোন জায়গায় কাজ করতাম। আমার এই পেশার জন্য সবচেয়ে বেশি অবদান তাঁর।২০০০ সালে আমার বাবা মারা যাওয়ার সেই কষ্ট বাসুদা চলে যাওয়ার পর আবার অনুভব করছি। তাঁর চলে যাওয়াটা আমার পিতৃবিয়োগের চেয়ে কোন অংশে কম না। আমরা একসঙ্গে চারটি সিনেমা করেছি। হঠাৎ বৃষ্টি, চুপি চুপি, টক ঝাল মিষ্টি, হঠাৎ সেদিন। আরও একটি ছবি বিয়ের ফাঁদে করার কথা হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই উনি আমাদের ফাঁকি দিয়ে চলে গেলেন। অসম্ভব ভালো বন্ধুত্বপূর্ণ মানুষ ছিলেন তিনি। তাঁর জন্য আমার ,আমার পরিবার এবং পুরো বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনেক অনেক দোয়া। তিনি যেন শান্তিতে থাকেন সেটাই কামনা করব। যতদিন আমি বেঁচে থাকব, ততদিন আমার সঙ্গে তাঁর স্মৃতিও থাকবে। তিনি থাকবেন আমার মাথার একজন ছায়া হয়ে। সবার কাছে অনুরোধ করব, এই মানুষটির জন্য দোয়া করেন।'
- প্রবাদপ্রতিম পরিচালক বাসু চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণে চলচ্চিত্র জগতে অবসান হল এক যুগের।



Comments
Post a Comment