শাকের ব্যবহারে বাড়ুক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা




করোনা মোকাবিলায়  লকডাউনের পাশাপাশি  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। আর দৈনন্দিন খাবারের হাত ধরে আসে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তাই প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে যেমন প্রয়োজন কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট জাতীয় খাবার তেমনি খাদ্য তালিকায় দরকার ফল ,শাকসবজির মাত্রা। কমবেশি আমরা সবাই শাক খেতে ভালোবাসি। নিয়মিত শাক খেলে নানা ধরনের রোগ-ব্যাধি দূরে থাকে। শাক রান্নার পদ্ধতি এক এক জনের কাছে এক একরকম। কেউ পছন্দ করেন শাক ভাজা করতে আবার কারোর পছন্দ শাক দিয়ে নানারকম রেসিপি। তবে যেভাবেই খান না কেন, শাকের গুনাগুন আমাদের শরীরের পক্ষে অপরিহার্য।

 আজ জেনে নেওয়া যাক কোন শাকের কি কি গুন...

* পুঁইশাক -

সাধারণত পুঁই গাছের পাতা ও ডাঁটি শাক হিসেবে খাওয়া হয়ে থাকে। অনেকে কুমড়ো, চিংড়ি কিংবা মাছের মাথা দিয়ে  পুঁইশাক  খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু জানেন কি এর গুণাবলী ! পুঁইশাকে আছে প্রচুর ভিটামিন বি, সি ও এ। এর সঙ্গেই আছে এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম আর আয়রণ। পুঁই শাকে আছে এক ধরণের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট  যা  রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। পুঁই শাক  পটাসিয়ামের একটি ভালো উৎস। আমরা জানি পটাশিয়াম ব্লাড প্রেসার কম করায়। পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখে। এতে আছে বিটা ক্যারোটিন আর এই বিটা ক্যারোটিন অ্যাজমা হতে দেয় না সহজে। পুঁই শাক ক্যানসার দূর করতে সাহায্য করে।

* পালং শাক - 

পালং শাকে থাকা পটাশিয়ামের কারণে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়। স্বাভাবিক ভাবেই রক্তচাপ বৃদ্ধির আশঙ্কা হ্রাস পায়। পালং শাকের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের কোষগুলোকে  সুস্থ রাখে।  মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত পালং শাক খেলে  কিডনিতে পাথর থাকলে, তা গুঁড়ো হয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এর কচি পাতা ফুসফুস, গলার সমস্যা, শরীরের জ্বালাপোড়া সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করে। পালং শাকে লুটেইন নামক পদার্থ রয়েছে যা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কম করে হৃদরোগের ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষা করে। এমনকি পালং শাকের ভিতরে থাকা নানা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট  হার্টের পেশিকে সুস্থ সবল রাখে। এর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 

* সজনে শাক বা সজনে পাতা -

পুষ্টি গুণে ভরপুর সজনে ডাটা অনেকেরই পছন্দের একটি খাবার। ডাটার মতো এর শাকেও প্রচুর পুষ্টিগুণ রয়েছে। সজনে শাক সংক্রমণের প্রভাব কমায়। শরীরের জমে থাকা টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। এছাড়া এই শাকে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন বি সিক্স, ভিটামিন সি, আয়রন, রিভোফ্লাভিন, ভিটামিন এ এবং ম্যাগনেশিয়াম যার ফলে বাড়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ।

* লাল শাক -

লাল শাক একটি অতিপরিচিত শাক ।  প্রায় সারা বছরই  পাওয়া যায়। লাল শাক রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়ায়। ফলে যাদের রক্তস্বল্পতা বা  অ্যানিমিয়া আছে তারা নিয়মিত লাল শাক খেলে রক্তস্বল্পতা পূরণ হয়। লাল শাকের ক্যালসিয়ামের পরিমাণ অন্য শাকের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। তাই দাঁতের সুস্থতা, হাঁড় গঠন, গর্ভবতী এবং প্রসূতি মায়েদের দৈনিক ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে এই শাক উপকারী। লালশাকে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার বা আঁশ থাকে, যা হজমে সাহায্য করে। এই শাকে আছে  প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ , যা চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধির জন্য খুব উপকারী।

* কলমি শাক - 

কলমি শাকের খাদ্যউপাদানে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে। বসন্ত রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে এই শাক। এছাড়া নিয়মিত কলমি শাক খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। এই শাক অনিদ্রা দূরীকরণে সাহায্য করে।

* ধনে পাতা  বা ধনে শাক -

রান্নায় স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি ধনে পাতা বা ধনে শাকের গুন অপরিহার্য। ধনেপাতায়  রয়েছে ভিটামিন এ, যা চোখের পুষ্টি জোগায়, রাতকানা রোগ দূর করতে সাহায্য করে । ধনেপাতা রক্ত পরিষ্কার রাখে। এছাড়াও ধনেপাতায় রয়েছে ভিটামিন এ ফলে অ্যালঝাইমা রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

* লাউ শাক - 

লাউ শাকে রয়েছে উচ্চ মাত্রার ভিটামিন-সি। যা বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ও ঠাণ্ডা প্রতিরোধে সাহায্য করে। লাউ শাক দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। তাই এই শাক খেলে মস্তিষ্ক  ঠাণ্ডা থাকে এবং ঘুমও হয়। লাউ শাকে থাকা পটাশিয়াম হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে।

* মেথি শাক -

মেথি শাক আছে হাই ফাইবার। তাই ওজন কমাতে সাহায্য করে এই শাক। কোলেস্টেরলের পাশাপাশি রক্তে সুগারের মাত্রাও কমায় ফলে স্ট্রোক হওয়ার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম হয়।

* সর্ষে বা সরিষা শাক -

ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ এই শাক শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এতে আছে  অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট  যা নানারকম ভাইরাল সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে।

* কচু শাক - 

 শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ সচল রাখতে কচু শাক অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে । এই শাকের আয়রন ও ফোলেট রক্তের পরিমাণ বাড়ায়। ফলে অক্সিজেন সংবহন পর্যাপ্ত থাকে। এতে উপস্থিত ভিটামিন কে রক্তপাতের সমস্যা প্রতিরোধ করে। নিয়মিত কচুশাক খেলে কোলন ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমে।

* নটে শাক -

নানান রোগের ওষুধ হিসাবে খাওয়া হয় নটে শাকের শিকড় ও পাতা। এটি হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে , মলমূত্র পরিষ্কার রাখে , সহজে পরিপাক হয়। নটে শাক অ্যান্টি - অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ  যার ফলে মেয়েদের সাদাস্রাব জনিত সমস্যা দূর হয়।

শাক শরীরের পক্ষে অনেক উপকারী তাই  প্রতিদিনে পাতে থাকলে ঠেকানো যাবে নানান অসুখ ।

Comments