ছবির নাম - মালাঙ্গ
পরিচালক - মোহিত সুরি
অভিনয় - আদিত্য রায় কাপুর, দিশা পাটানি, অনিল কাপুর, কুনাল খেমু
সময়সীমা - ২ঘন্টা ১৫ মিনিট
রেটিং - ৩/৫
চিরাচরিত লাভস্টোরির বদলে ইদানিং পরিবর্তিত হচ্ছে গল্পের ধরণ। গল্পের নিরিখে বলিউডে উঠে আসছে সামাজিক প্রেক্ষাপট । আর এই প্রেক্ষাপটের আদলে দিব্যি গল্পের শান দিচ্ছেন পরিচালকেরা। আর এই ঘনঘটায় এবার আসরে নামলেন পরিচালক মোহিত সুরি। ছবির নাম 'মালাঙ্গ'।
গোয়াতে অদ্ভেতের (আদিত্য রায় কাপুর) সাথে হঠাৎই দেখা হয় আধুনিকা সারা'র (দিশা পাটানি)। প্রাণবন্ত সারা তাঁর জীবনে চায় স্বাধীনতা। যেখানে কেউ তাঁর কোন ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না অর্থাৎ নিজের জীবনকে ঘিরে আকারণে মানুষের কৌতূহল তার অপছন্দের। অন্যদিকে অদ্ভেতও স্বাধীনতাচেতা মানসিকতার। কোন সম্পর্কের বাঁধনে আটকে থাকতে নারাজ সে। অতএব দুজনের মধ্যে শুরু হয় বন্ধুত্ব। পরবর্তীতে তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে বয়ে চলে প্রেমের কাহিনী। একইসঙ্গে তাঁদের জীবনে প্রবেশ করে নেশার হাতছানি। চলে একে অপরের ঘনিষ্ঠতা।একসময় প্রেগনেন্ট হয় সারা। কিন্তু প্রথমে অদ্ভেত দায়িত্ব নিতে রাজি না হলেও পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে আবার ফিরে আসে সারার কাছে। আর এরইমাঝে তাঁদের জীবনে আসে প্রলয়। চারজন পুলিশ অফিসারের নারকীয় বর্বতার স্বীকার হয় তাঁরা। শুরু হয় খুনের খেলা। এক এক করে সেই পুলিশ অফিসারদের খুন করে প্রতিশোধ নেয় অদ্ভেত । আর সকলের আড়ালে অদ্ভেতের
পাশে থেকে সারা নিজেও খুন করতে তৎপর হয়ে ওঠে।
কিন্তু কেনই বা পুলিশ অফিসারদের বর্বতার স্বীকার হয় অদ্ভেত-সারা? আর এখানেই গল্পের ক্লাইম্যাক্স ধরে রেখেছেন পরিচালক মোহিত সুরি। যে চারজনকে নিয়ে গল্পের বুনন বেঁধেছেন পরিচালক সেখানে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন কুণাল খেমু। যিনি রয়েছেন একজন পুলিশ অফিসারের চরিত্রে, আর তাঁরই ব্যাকস্টোরিতে এই যাবতীয় ঘটনার সূত্রপাত । এই গল্পে রয়েছে অনেক অন্ধকার দিক । এই গল্পে এক পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় রয়েছেন অনিল কাপুর। যেখানে একটু ফান এলিমেন্টের সঙ্গে ডার্ক চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে। প্রেম, খুন ও প্রতিহিংসার গল্প বলবে মালাঙ্গ।
কেমন লাগল সিনেমা-
'হাফ গার্লফ্রেন্ড’-এর পর প্রায় তিন বছর পরে প্রেম ,প্রতিহিংসার গল্প 'মালাঙ্গ' নিয়ে ফের পরিচালনায় ফিরলেন পরিচালক মোহিত সুরি। ছবিটি ঘিরে রয়েছে ভরপুর অ্যাকশন। তেমনি সংলাপও বেশ অসাধারণ। একইসঙ্গে গোয়াতে নায়ক-নায়িকার অ্যাডভেঞ্চারের দৃশ্যগুলো মন জয় করবে। বিকিনিতে দিশা পাটানির বোল্ড লুক অসাধারণ।পাশাপাশি আদিত্য রায় কাপুর আর দিশা পাটানির লিপলক সিন আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। অভিনয়ের প্রসঙ্গে বলতে গেলে আদিত্যর পারফরমেন্স খুবই ভালো ।একইসঙ্গে অনিল কাপুরের অসাধারণ অভিনয় এই গল্পে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। অন্যদিকে,২০০৫-এ ‘কলিযুগ’-এর পর ফের পর্দায় ফিরলেন কুণাল খেমু।
প্রেম, প্রতিহিংসা,খুনের এক জমজমাটি গল্পে উত্তীর্ণ মালাঙ্গ।






Comments
Post a Comment