পেশাদারিত্বে নয় দিলদরিয়ায় প্রযোজক ববি


কথায় বলে সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে। আধুনিক সমাজে শুধুমাত্র সংসারে নয় রমনীদের গুণ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। মহাকাশ জগত হোক
কিংবা যুদ্ধক্ষেত্র সব পরিমণ্ডলে মহিলাদের জয় জয়কার। সিনেমার আঙিনায় শুধুমাত্র গ্ল্যামারেসের তকমায় সীমাবদ্ধ না থেকে  রমণীরা আজ কখনো পরিচালক কিংবা প্রযোজকের ভূমিকায় দিব্যি সিদ্ধহস্ত। বরাবরই অভিনয়ের দক্ষতায় দর্শকদের মন জয় করেছেন তিনি। তাঁর প্রযোজনায় ফুটে উঠেছে সিনেমার এক অন্য ভাষা। এহেন সর্বগুণসম্পন্না আর কেউ নন তিনি হলেন স্বনামধন্য প্রযোজক ববি মন্ডল। আগামী ২৭শে ডিসেম্বর বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামের সেমিনার হলে হতে চলেছে তাঁর প্রযোজিত দ্বৈত বাংলা শর্ট ফিল্ম 'দি সাইকিয়াট্রিস্ট' এবং 'কালচক্র' -র স্ক্রিনিং। সিনেমা জগতে দীর্ঘ ২২বছর কেমন ছিল তাঁর অভিজ্ঞতা ?  জেনে নেওয়া যাক প্রযোজক ববি মন্ডল-এর কিছু অজানা অধ্যায়।

ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি অদম্য ভালোবাসা উপেক্ষা করতে পারতেন না ববি।সেই সুবাদে ওরিয়েন্টাল অ্যাকাডেমি-তে  অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নেন তিনি। মাত্র আট বছর বয়সে টেলিফিল্ম 'সম্পর্ক' দিয়ে অভিনয় জীবনের হাতেখড়ি তাঁর। এরপর অসংখ্য টেলিসিরিয়ালে বেশ নজর কাড়েন এই অভিনেত্রী । ক্রমে ক্রমে  সিরিয়ালের পাশাপাশি থিয়েটার , সিনেমার এক পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন  তিনি। স্মৃতিবিজড়িত অভিনয় জীবনে অনামিকা সাহা, দেবিকা মুখার্জি, শুভাশীষ মুখার্জি -এর মত অভিনেতা অভিনেত্রীদের সাথে অভিনয়ের প্ল্যাটফর্ম তাঁর মনের মণিকোঠায় আজও তরতাজা। 'এরাও শত্রু' ,'জননী' সহ বহু সিরিয়ালে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। একইসঙ্গে তিনি অভিনয়ের প্রতিভায় মজিয়েছেন যাত্রাপ্রেমীদের মন।  উলুবেড়িয়া, খড়গপুর সহ বহু জায়গার যাত্রার প্রাঙ্গনে এক উজ্জ্বল নাম ববি। নিজের ভালো মুহূর্ত হিসাবে তিনি মনে করেন  উলুবেড়িয়ার এক যাত্রার মঞ্চে তাঁর অভিনীত পাগলের চরিত্রে দর্শকদের বাঁধভাঙা চোখের জল। সেইদিন
স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি পেয়েছিলেন টাকার মালা, গিটার সহ একাধিক সম্মাদনা। আর অবশ্যই প্রাপ্তি হিসাবে মনে করেন যাত্রাপ্রেমীদের আশীর্বাদ। শুধু কি তাই!  অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন সুগায়িকাও। বিভিন্ন স্টেজ শোয়ের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন নিজের অসাধারণ প্রতিভা। সদাই মিষ্ঠভাষী এই অভিনেত্রী মনে করেন কোন মেয়ের পরিবারের সাপোর্টই তাঁকে জীবনের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। তাই বারংবার নিজের বাবা-মা সহ সমস্ত পরিবারের সহযোগিতা আজ তাঁর মনের জোর। নিজের জীবনের আদর্শ হিসাবে তিনি মনে করেন পরিচালক তথা কনসেপ্ট রাইটার জয়শ্রী খাড়া-কে।

বরাবরই এক্সপেরিমেন্টে বিশ্বাসী তিনি। শুধুমাত্র সুঅভিনেত্রী হিসাবে গ্ল্যামারের চাকচিক্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গড়ে তোলেন  ইনোমানিয়া মোশন পিকচার্স নামক তাঁর নিজস্ব প্রোডাকশন হাউস। উদ্দেশ্য, বিনা পয়সা সুপ্রশিক্ষনের মাধ্যমে প্রতিভাবান ছেলেমেয়েদের অভিনয়ের সুযোগ দেওয়া। পালা বদলের যুগে সদা হাস্যময়ী এই অভিনেত্রীর কণ্ঠে রয়েছে কিছু আক্ষেপের সুর। তাঁর মতে, শুধুমাত্র টাকার বিনিময়  অতি সহজেই অভিনয় সুযোগ পাওয়ার হাতছানিতে দৌড়াচ্ছে এখনকার ছেলেমেয়েরা।  ঘটছে প্রতারণার শিকার। ফলস্বরূপ ঘিরে ধরছে হতাশা। তিনি মনে করেন কোন প্রলোভনে নয় প্রতিভাবনদের সঠিক সুযোগ হোক নিজের অভিনয় ক্ষমতার মাধ্যমে । এইজন্যই তিনি গড়ে তুলেছেন তাঁর স্বপ্নের ইনোমানিয়া মোশন পিকচার্স। খুব শীঘ্রই আসতে চলেছে তাঁর প্রশিক্ষিত ছাত্রছাত্রীদের অভিনীত বাংলা ফিচার ফিল্ম 'মুখোশের আড়ালে'। আর জীবনের লক্ষ্য! শুধু ভালোবেসে কাজ করে দর্শকদের ভালো সিনেমা উপহার দেওয়া।

সবশেষে বলাই যায়, শুধুমাত্র পেশাদারিত্বে নয় দিলদরিয়ার এক নতুন নাম প্রযোজক ববি মন্ডল।

ববি ! ঈশ্বরের কাছে একটাই প্রার্থনা  আপনার   হাত ধরে  প্রতিভাবান ছাত্রছাত্রীরা খুঁজে পাক  অভিনয়ের এক নতুন দিশা।

Comments