মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে আদি। কলেজে শান্ত, দীপ্তমান , পরোপকারী ছেলে হিসাবে পরিচিত সে। সাবলীল মিষ্টি স্বভাবের জন্য কলেজের মেয়েরাও তাঁর জন্য পাগল। একাধিক প্রেমের প্রস্তাব পেলেও আদি এড়িয়ে চলে এইসব। কিন্তু হঠাৎই আদির জীবনে আসে এক নতুন অধ্যায়। কলেজে রুহীকে প্রথম দেখে সে প্রেমে পড়ে যায় তাঁর। ভালোবাসার সাগরে বয়ে চলে দুজনে। কিন্তু হঠাৎই ভালোবাসার সাগরে আসে প্লাবন। এই দুই ভালোবাসার মানুষের জীবনে আসে এক দুর্ঘটনা। অসাধু উপায়ে এক প্রভাবশালী নিজের কার্যসিদ্ধি করতে রুহীর বাবাকে ঘুষ দিতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। আর প্রতিফলসরূপ গুন্ডাদের হাতে আক্রান্ত হয় রুহী। মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করায় স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে সে। কাউকে চিনে উঠতে পারে না রুহী।তবে কি ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে ফেলবে আদি! না , কথায় বলে, যদি তুমি মন থেকে কিছু চাও তা তুমি অবশ্যই পাবে। আদির ভালোবাসায় , যত্নে ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠে রুহী। এরপরই আসে গল্পের নতুন মোড়। শুরু হয় আদি রুহীর প্রেমকাহিনীর ছন্দপতন।
রুহী তাঁর বাবা-মাকে চিনতে পারলেও সে মনে করতে পারে না আদিকে। অন্যদিকে আদির সাথে নিজের মেয়ের বিয়ে ঠিক করে রুহীর পরিবার। আর ততক্ষনে রুহীর পছন্দ করতে শুরু করে অন্য কাউকে। রুহীর চোখে আদি শুধুমাত্র একজন অপরিচিত ব্যক্তি ছাড়া কিছুই নয়। নিজের পরিবারের এমন সিদ্ধান্তে বাড়ি ছেড়ে চলে যায় রুহী। তবে ফিরে আসে তাঁর পছন্দনীয় মানুষটিকে বিয়ে করে। এমন কাজে রুহীর পরিবারের আপত্তি থাকলেও আদির জেদে তাঁরা এই বিয়ে মানতে বাধ্য হয়। আদির কথায় তাঁরএবংরুহীর রিসেপশনের দিনে অনুষ্ঠিত হয় রুহী এবং তাঁর পছন্দের ব্যক্তির বিয়ের রিসেপশন।। কিন্তু রুহীর বাবা এবং আদির বন্ধুরা অবশেষে একটা শেষ চেষ্টা করে । রিসেপশনে এক ভিডিও স্টোরির সহযোগিতায় রুহীর মনে পড়ে যায় তাঁর আর আদির সম্পর্কের কথা। সে ফিরে যেতে চায় আদির কাছে। অবশেষে আদিকে ফিরে পায় রুহী। অন্যদিকে রুহীর স্বামী সহ গুন্ডাদের হাতে আক্রান্ত হয় তাঁরা। এর পাশাপাশি তাঁরা জানতে পারে এইসমস্ত কর্মকান্ডের পিছনে রয়েছে রুহীর স্বামী। রুহীকে বাঁচাতে গিয়ে মারা যায় আদি। এইভাবে হ্যাপি এন্ডিং -এর পরিবর্তে সেক্রিফাইসের মাধ্যমে বেঁচে থাকে আদি রুহীর ভালোবাসার কাহিনী। এমনি প্রেক্ষাপটে এস এস এন্টারটেন্টমেন্ট প্রযোজিত এবং পরিচালক সঞ্জয় দাস পরিচালিত বাংলা ছবি ' ও বন্ধু আমার'। গত শুক্রবার দক্ষিণ কলকাতার বিজলী সিনেমাহলে পরিচালক, প্রযোজক সহ কলাকুশলীদের নিয়ে হয়ে গেল রোমান্স থ্রিলারে ভরপুর এই ছবির স্ক্রিনিং। এই ছবিতে রুহীর চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেত্রী ঋত্বিকা সেন এবং আদির চরিত্রে অভিনেতা মিত। এছাড়াও ছবিতে অভিনয় করেছেন মৌসুমী সাহা, অরুণ ব্যানার্জি, অনুরাধা রায়, খরাজ মুখার্জী, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, সুপ্রিয় দত্ত, সাবির আলী, প্রাঞ্জল সহ আরো অনেকে। কাহিনী এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন বিথুন বেরা।সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্ব সামলেছেন অঞ্জন এবং জয়। গান গেয়েছেন কুমার শানু,পলক মুছল, রাজ বর্মন, জুবিন গার্গ, আমন তিরখা।
( ছবি -বিশ্বজিৎ সাহা)
সেক্রিফাইসের গল্প। একে অপরের পাশে থেকে ত্যাগের মাধ্যমে নিজের মনের মানুষের কাছে ভালোবাসা বাঁচিয়ে রাখা যায় তারই জ্বলন্ত উদাহরণ এই ছবি। গল্পের বুনন যেমন অসাধারণ। একইসঙ্গে ছবির প্রতিটি গান মন ছুঁয়ে যায়। ছবির পিকচার কোয়ালিটিও বেশ ভালো। তবে মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের ক্ষেত্রে আরো যত্নশীল হলে ভালো হত। চিরাচরিত রোমান্টিক গল্পের মোড়ক নয় বরঞ্চ পরিচালক সেক্রিফাইসের আবরণ তুলে ধরেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
(ছবি -বিশ্বজিৎ সাহা)
সবমিলিয়ে সিনেমা জগতে বাংলা ছবি 'ও বন্ধু আমার' সেক্রিফাইসের গল্পে এক অসাধারণ মিশেল।



Comments
Post a Comment