বহিঃসজ্জা নয় নারীকে বিচার করুন তাঁর অন্তরসজ্জায় : পদ্মিনী দত্ত শর্মা





BOOK REVIEW
LEGITIMATELY  ILLEGITIMATE

উপন্যাস  -  লেজিটিমেটলী  ইললেজিটিমেট
লেখিকা  -  পদ্মিনী দত্ত শর্মা
প্রকাশক  -  অ্যামাজন
পৃষ্ঠা         -  ২০০ 
মূল্য         -  ৫.৩৭ ডলার

আধুনিকযুগে পর্দা প্রথা অতীত হলেও আজও নারীদের পোশাক নির্বাচনে  কিংবা  নারী স্বাধীনতায় ওঠে হাজারো প্রশ্ন। কখনো  রমনীদের হাতে সিগারেট কিংবা সুরা পানের হদিস পেলে দৈনন্দিন চর্চার বিষয়বস্তুর  এ যেন এক সুলক সন্ধান। পরিবর্তনশীল যুগে আজকালকার আধুনিকাদের এ হেন ঘটনা আমার আপনার কাছে যখন শুধুমাত্র  মজাদার গসিপ   তখনই সে ঘটনার গভীরে এক নতুন সত্যর উন্মোচন করেন স্বনামধন্য লেখিকা পদ্মিনি দত্ত শর্মা। বরাবরই লেখনির মাধ্যমে তিনি সোচ্চার  হন সমাজের ঘৃণ্য মানসিকতার বিরুদ্ধে। আজও তাঁর ব্যতিক্রম নয়। সম্প্রতি অ্যামাজন-এ প্রকাশিত হয়েছে তাঁর নতুন উপন্যাস 'লেজিটিমেটলী  ইললেজিটিমেট'। 

 উপন্যাসের কাহিনী যেমন-
এ গল্প দুই আধুনিক নারী অহনা এবং রিয়ার জীবনের নানা অধ্যায়কে কেন্দ্র করে। ম্যানেজমেন্ট পড়ুয়া অহনা। একটা ভালো চাকরির স্বপ্ন দেখে সে। প্যারালাইন্ডিং, রক ক্লাইম্বিং, ফটোগ্রাফি, ট্রেকিং  এ সব কিছুই  তাঁর খুব পছন্দের।  কিন্তু সমাজের চোখে অহনা এক মন্দ মেয়ে।দেরি করে বাড়ি ফেরা, মদ খাওয়া,  মারিজুয়ানা(গাঁজা) নেওয়া,কোন সম্পর্কে  বেশিদিন থাকতে না  পারা  অর্থাৎ তাঁর জীবনযাপন সম্পর্কে বিভিন্ন লোকেদের ছিল কুরুচিকর মন্তব্য এবং একইসঙ্গে সকলের কাছে সে ছিল এক চরিত্রহীনা নারী। আদিত্য নামক একটি ছেলের সাথে ভালোবাসার সম্পর্কে আবদ্ধ থাকলেও তাঁদের মধ্যে ছিল না কোন সুষ্ঠ সম্পর্ক। আদিত্য একাধারে ছিল অতিরিক্ত পজিসিভ এবং অন্যদিকে নিজের পড়াশোনা ,কেরিয়ারের প্রতি অত্যাধিক মগ্নপ্রিয় । তাঁর সময় ছিল না অহনার কথা শোনার। এরফলে একসময় অহনা আদিত্য থেকে দূরে চলে যায়। এরইমাঝে অহনার জীবনে আসে তাঁর বেস্টফ্রেন্ড ইউভ। স্ক্রিপ্ট লেখা এবং একইসঙ্গে ছবি তৈরির স্বপ্ন দেখত প্রানোচ্ছল ইউভ। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে গড়ে ওঠে এক  সুসম্পর্ক।  প্রকৃতপক্ষে অহনা খুবই পরোপকারী মেয়ে হলেও তাঁর জীবনে বাসা বেঁধে রয়েছে শুধুই শূন্যতা। খুব ছোটবেলায়  তাঁর মা তাঁকে ছেড়ে চলে যায়। সে মানুষ হয় এক অন্য দম্পতির কাছে।  নিজের আপন মা তাকে ছেড়ে চলে যাওয়াটা কিছুতেই  মন থেকে মেনে নিতে পারে না সে। বরাবরই একটাই প্রশ্ন তাঁর মাথায় ঘুরতে থাকে যে কেন  তাঁর মা তাকে ছেড়ে  দিয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরের সন্ধানে  সে বেরিয়ে পড়ে এবং  একসময় সে পৌঁছায় বৌদ্ধ মনেস্ট্রিতে । অপরদিকে এই উপন্যাসের আরেক প্রোটাগনিস্ট  রিয়া, যে একজন ড্রাগ প্রেডলর। ফ্লাইটে ড্রাগ পাচারের সময় যখনই সে বিপদের আশঙ্কা পায়  তখনই সে অন্যের ব্যাগে কিংবা পকেটে হস্তান্তর করে সেই মাদক। সেইমত একদিন দুবাইতে ড্রাগ পাচার করার সময় তাঁর সাথে এক ব্যক্তির দেখা হয়।  সে বুঝতে পারে এই সহজ সরল মানুষটিকে বিপদে ফেলা ঠিক কাজ নয়। তবে কি সেই ব্যক্তির সংস্পর্শে বদলে যাবে রিয়ার জীবন? অপরদিকে, অহনা কি  উত্তর পাবে তাঁর সব প্রশ্নের? এসব জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে 'লেজিটিমেটলী  ইললেজিটিমেট' ।

কেমন লাগল উপন্যাস
পদ্মিনী দত্ত শর্মা যেমন  একাধারে লেখিকা এবং অন্যদিকে  একজন  কাউন্সিলর ও কমিউনিকেশন কনসালটেন্ট। 'লেজিটিমেটলী  ইললেজিটিমেট' -এটি স্রষ্টার ১০তম বই এবং এটি একটি উপন্যাস। ২০০ পৃষ্ঠার এই গল্পের বুনন এককথায় অসাধারণ। অহনা এবং রিয়া ছাড়াও স্রষ্টা এই উপন্যাসে অনেক চরিত্র তুলে ধরেছেন যা বাস্তব সমাজে খুবই প্রাণবন্ত।  তাঁর সমস্ত লেখনিতে থাকে সমাজের সেই না বলা অধ্যায়। যা খুবই বাস্তবপ্রসূত। ইংরেজি সাহিত্যে নিয়ে তাঁর পড়াশোনা,ভালোবাসেন এনিড ব্লাইটন, আগাথা ক্রিস্টি',শার্লক হোমস','শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর', 'মুন্সি প্রেমচাঁদ'  ইত্যাদির গল্প। তাঁর প্রত্যেক লেখনি ইংরেজি ভাষায় হলেও তিনি তা ব্যক্ত করেন খুবই সহজ সরল ভাষায়।

নিজের উপন্যাস 'লেজিটিমেটলী  ইললেজিটিমেট' সম্পর্কে লেখিকা জানান, "আমরা খুব সহজেই কোন ব্যক্তির পোশাক কিংবা লাইফস্টাইল দেখে নানারকম মন্তব্য করে থাকি যা কখনই উচিত নয়। এই উপন্যাসের মাধ্যমে সমাজে এই বার্তা দিতে চাই যে জন্ম থেকে কোন ব্যক্তি খারাপ হয় না এরজন্য দায়ী চারপাশের পরিস্থিতি। বহিঃসজ্জা নয় নারীকে বিচার করুন তাঁর অন্তরসজ্জায়।"

আপনাদের জানিয়েরাখি, এমাসেই অ্যামাজন-এ প্রকাশিত হয়েছে এই উপন্যাস। আর প্রথম দিনেই  এই উপন্যাসের বিক্রি সংখ্যা ১০০ । যা সত্যিই প্রশংসনীয়।



Comments