চারিদিকে একটু একটু করে আগমনীর সাজ শুরু । পুজোয় গানের অ্যালবামে থাকে এক আলাদা বিশেষত । তাই এবার পুজোয় একক ভিডিও অ্যালবাম নিয়ে গানপ্রেমীদের মন মাতাতে আসছেন জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক তথা গায়ক তমোঘ্ন ঘোষ। সংগীত জীবনে জনপ্রিয় মুখ তমোঘ্ন । তিনি একাধারে
গীতিকার, গায়ক, এবং সাউন্ড ডিজাইনার। শুধুমাত্র বাংলায় নয় মুম্বাইতে তিনি সমানতালে জনপ্রিয় । 'লিংকডইন' নামক জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর অনুগামীদের সংখ্যা প্রচুর। তাঁকে রাতে জাগিয়ে রাখে নিজের নতুন অ্যালবামের 'ডুবে রয়েছি যে আমি' গানটি।।এত জনপ্রিয়তায় কেমন ছিল তাঁর সংগীত জীবনের অভিজ্ঞতা ? গানে গানে একান্ত সাক্ষাৎকারে খোলামেলা আড্ডায় তমোঘ্ন ঘোষ।
নৈহাটির এক চিকিৎসক পরিবারে জন্ম। চিকিৎসক হওয়ার সাথে সাথে বাবা ভালো গান গাইতেন। সেই থেকেই তাঁর গানের প্রতি ভালোবাসা । মাত্র তিন বছর বয়সে প্রথম স্টেজ শো।গানের পাশাপাশি পড়াশোনায় ছিল সমান মেধা। ২০০২ সালে বিএসি পড়া শেষ হওয়ার পর তমোঘ্ন-র পুরোপুরি সংগীত জীবনে প্রবেশ।
★সংগীত জীবনে তোমার প্রথম ব্রেক কোনটা ?
- ১৯৯৯সালে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম অ্যালবাম। ২০০১ সালে প্রকাশিত দ্বিতীয় অ্যালবামে আমি উত্তম কুমার অ্যাওয়ার্ড পাই। তবে ২০০৪সালে সংগীত শিল্পী সৈকত মিত্রের 'তোমার ভালবাসা' অ্যালবামে আমি তিনটি গান গাই যা খুবই পপুলার হয়। শুধুতাই নয় এফএমে গানগুলি পুরোদিন বাজতে থাকে। এরজন্য আমি ২০০৫ সালে দ্বিতীয়বার উত্তমকুমার অ্যাওয়ার্ড পাই।
বরাবরই এক্সপেরিমেন্টে বিশ্বাসে তিনি। তাই
নিজের ইউএসপি সম্পর্কে জানতে চাইলে তমোঘ্ন জানান, " আমার প্রত্যেকটা গান একে অপরের থেকে আলাদা । কারণ গান তৈরি করার সময় আমার সবসময় মাথায় আসে সেটায় আমি সেটিস্ফাইড কিনা। আমার প্রত্যেক গানেই থাকে আত্মার মেলবন্ধন।"
★ তোমার এই নতুন অ্যালবাম সম্পর্কে কিছু জানাও?
- চারটে নতুন ট্র্যাক নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করেছি। একটি গানের চারটি ভার্সন। মূলত রোম্যান্টিক গান। এরমধ্যে একটি বাংলা ও হিন্দি অপর দুটি আনপ্লাগড গান। ইতিমধ্যে গানগুলির রেকর্ডিং হয়ে গেছে। মধ্যমগ্রামে বাংলা এবং হিন্দি গানের মিউজিক ভিডিওর শ্যুটিং শেষ হয়েছে। খুব শীঘ্রই 'ভালোবাসা' এবং 'দিল তরসে' নামক এই দুটি অ্যালবাম প্রকাশিত হবে। যেখানে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় ধারাবাহিক 'এখানে আকাশ নীল' -এর নায়িকা শ্রেষ্ঠা শূর। যার সাথে আমার রোম্যান্টিক দৃশ্য আছে। হিন্দি গানটি লিখেছেন রাগা মিউজিকের কর্ণধার শ্রী প্রেম কুমার গুপ্তা। গানের সুর, কথা এবং কম্পোজ করেছি আমি।
নিজের অ্যালবামের পরিসরে তমোঘ্নর পছন্দের গানগুলি হল, ২০০৪সালে গায়ক সৈকত মিত্রের 'ডুইবা ডুইবা'। এছাড়াও ২০০৫-এ রাঘব চট্টোপাধ্যায়ের গাওয়া 'যদি বলি উড়তে চায় এ মন ' এবং ২০০৬ সালে 'যদি কেউ কাছে এসে' , মজার গান 'তোমার কি ফিগার' এর মত একাধিক হিট গান।
★ তোমার পছন্দের সিঙ্গার ?
- এমনিতে সবার সাথে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো। পছন্দের সিঙ্গার বলতে সোনু নিগম, সুকৃতি কক্কর, তারান্নুম মল্লিক, শ্রেয়া ঘোষাল, পালক মুছল।
প্রথাগত শিক্ষা হিসাবে তিনি শ্রীকুমার সরকার , কানু ভট্টাচার্য এবং রাঘব চট্টোপাধ্যায়ের মায়ের কাছে গানের তালিম নিয়েছেন। ক্যাসিকাল ঘরানার সংগীত শিল্পী হলেও রোম্যান্টিক গান গাইতে ভালোবাসেন তিনি। একাধিক গানে নিজে কম্পোজ করলেও তমোঘ্ন-র পছন্দের মিউজিক কম্পোজার প্রীতম। উঠতি প্রতিভা হিসাবে তাঁর ভালো লাগে তানিশ বাগচির কাজ।
গানের পরিধি যত বেড়েছে ততই বেড়েছে তাঁর অভিজ্ঞতা। নিজের এই কেরিয়ার জীবনের স্ট্রাগল সম্পর্কে তমোঘ্ন -এর কথায় ভেসে আসে নস্টালজিয়ার সুর। তিনি জানান, "একসময় ট্রেনে সফর করতাম । সেই সময় পেপি নাম্বার্স তৈরি করতাম । আর এখন গাড়িতে সফর করলেও সংগ্রাম চলছে।"
জনপ্রিয়তা তাঁর আকাশ ছুঁলেও কথার প্রসঙ্গে উঠে আসে কিছু আক্ষেপের সুর। তাঁর মতে, "আজকাল বদলেছে কাজের ধরন। প্রত্যেকেই প্রডিউসারকে তেল লাগাতে ব্যস্ত। যার ফলে সবাই পুরোনো গানের রিমেক কিংবা কপি পেস্ট করছে। এযুগে ৭০-৮০ দশকের মত ভালো গান তৈরি হয়ে আসছে না এবং একইসাথে শ্রোতারা ভালো গান শুনতে পাচ্ছে না। "
★গানের জগতে এমন কোন স্বপ্ন যা এখন অসম্পূর্ণ ?
- এখন পর্যন্ত কেউ আমার ১০ পার্সেন্ট ট্যালেন্ট ইউস করেন নি। ভালো কাজের অপেক্ষায় রয়েছি।
★ভূতের রাজার কাছে তিনটে বর হিসাবে তুমি কি চাইবে?
প্রথমত, সেই সব প্রতিভাবান মানুষদের কাজ দেব যারা সুযোগের অভাবে বঞ্চিত।দ্বিতীয়ত, ভিক্ষুকদের খাবারের ব্যবস্থা করব। সর্বশেষ মা মনসা দেবীর একটি মন্দির গড়ে তুলব।
গানই তাঁর অনুপ্রেরণা, গানই তাঁর ভালোবাসা।সুর তাল ছন্দের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র তমোঘ্ন ঘোষ।
তমোঘ্ন! আপনার আসন্ন ভিডিও অ্যালবামের জন্য আমাদের তরফ থেকে রইল অনেক অনেক শুভেচ্ছা।









Comments
Post a Comment