'সাক্ষী অ্যান আই উইটনেস' এক ভিন্ন ধরনের ছবি নিয়ে অকপটে পরিচালক সুশান্ত


অন্যকে নকল করতে গিয়ে বাংলা ছবি আজ তাঁর নিজস্বতা হারাচ্ছে: সুশান্ত সাহা



সিনেমা, একপ্রকার দৃশ্যমান বিনোদনের মাধ্যম। পর্দায় নায়ক নায়িকার রোমান্স হোক কিংবা ভিলেনের সাথে হিরোর অ্যাকশান  , এসবই পর্দার আড়ালে থেকে  যাঁর অঙ্গুলিহেলনে গল্পের মোড়কে  আমরা কখনো চোখের জলে,  আবার কখনো  আনন্দের ভেলায় ভেসে যাই ,তিনি হলেন ডিরেক্টর বা পরিচালক।বলা ভালো, আমরা সাধারণত গল্পের আকারে সিনেমাকে দেখি পরিচালকের চোখ দিয়ে। ঠিক তেমনি চলচ্চিত্র দুনিয়ায় 'সাগর কিনারে', 'আপন শত্রু' , 'ভুলভাল', 'ছিপ সুতো চার'-এর মত অসামান্য সিনেমার বাঁধনে প্রতিনিয়ত দর্শকদের মন কেড়েছেন যিনি, তিনিই হলেন স্বনামধন্য পরিচালক  সুশান্ত সাহা।  চলতি বছরে  বড়পর্দায় ধামাকা দিতে আসছে তাঁর  নতুন  ছবি 'সাক্ষী  অ্যান
আই উইটনেস'। একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে আসল তাঁর জীবনের কিছু না বলা অধ্যায়।

ছোটবেলা থেকে ডাক্তারি পড়ার ইচ্ছা থাকলেও  প্রতিভাবান পরিচালক উৎপলেন্দু চক্রবর্তীর হাত ধরে হঠাৎই তাঁর অভিনয় জগতে প্রবেশ। তিনি একাধিক ছবিতে  দেখিয়েছেন তাঁর অভিনয়শৈলী।  চলচ্চিত্র দুনিয়ায় উজ্জ্বল চ্যাটার্জি, পার্থ প্রতিম চৌধুরী, বিষ্ণু পাল চৌধুরীর সান্নিধ্য তাঁর কাছে পরম প্রাপ্তি। বরাবরই এক্সপেরিমেন্টালে বিশ্বাসী তিনি।  বহুমুখী প্রতিভার সম্ভারের আরেক নাম সুশান্ত সাহা।  অভিনয়,গল্প লেখা, অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি একসময়   ক্যামেরার পিছনে নেতৃত্ব দেওয়ার বাসনা থেকেই একজন পরিচালক হিসাবে তাঁর আত্মপ্রকাশ।



আপনার প্রথম ব্রেক কিভাবে?

- দূরদর্শনে 'অঙ্কুর' নামক  সিরিয়ালের মাধ্যমে আমার প্রথম পথচলা শুরু। যেখানে অভিনয় করেছিলেন সাহেব চট্টোপাধ্যায়, গার্গী রায়চৌধুরীর মত শিল্পীরা। তারপর একের পর এক সিরিয়াল করা। এরইমধ্যে ইন্দো-বাংলাদেশের ছবির অফার পাওয়া। এরপর 'রণাঙ্গন', 'সাগর কিনারে, 'একটু ভালোবাসা' মত একের পর এক ছবিতে পরিচালনার দায়িত্ব সামলেছি। সেই সময় 'সাগর কিনারে' খুব জনপ্রিয় হয়েছিল।ছবির অপূর্ব সুন্দর বিয়ের সেটটি তখনকার দিনে সমস্ত ডিরেক্টরদের মন জয় করেছিল।

নতুন পরিচালক হিসেবে আপনাকে কি কি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছিল ?

- চ্যালেঞ্জ বলতে তখনকার দিনে স্পন্সার প্রোগ্রাম ছিল।স্পন্সারের অনেক সমস্যা হত। যদিও এই সমস্যা এখনও আছে আর ভবিষ্যতে থাকবে। অপর সমস্যা পলিটিক্স। ইন্ডাস্ট্রিতে সেই পলিটিক্স সামলানো এক বিরাট ব্যাপার। একজন ডিরেক্টর হিসাবে প্রতিনিয়ত এইসমস্ত চ্যালেঞ্জ ফেস করতে হয়।।


তাঁর ছবিতে থাকে  নতুনত্বের ছোঁয়া। দর্শকদের
মনের মণিকোঠায় পৌঁছে যেতে তিনি বরাবরই ভিন্ন সাধের ছবি নিয়ে বড়পর্দায় ধরা দেন। সেরকমই চলতি বছরে শীতকালে আসছে সুশান্ত সাহার নতুন বাংলা ছবি 'সাক্ষী অ্যান আই উইটনেস'।

আপনার এই  নতুন ছবি সম্পর্কে কিছু বলুন?

-'সাক্ষী অ্যান আই উইটনেস'-এযুগে দাঁড়িয়ে এক প্রাসঙ্গিক ছবি। একটি বাচ্চা ছেলে নিজের মা-বাবা তথা সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে  একজন ক্রিমিনালকে কিভাবে শাস্তি দিতে হয় তা সমাজকে বুঝিয়ে দেবে। এই ছবিতে রয়েছে  ভরপুর সাসপেন্স। মূলত বাচ্চাদের ছবি হলেও বলা ভালো এটি এক পারিবারিক ছবি। ছবিতে মিউজিক দিয়েছেন অরূপ ঘোষ। ক্যামেরার দায়িত্ব সামলেছেন সুশান্ত ঘোষ (পাপন) এবং এডিটিং -এ নারায়ণ বিশ্বাস। কাহিনী আমার লেখা।

★ এই ছবিতে কারা কারা অভিনয় করেছেন?

- এই ছবিতে অভিনয় করেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সব্যসাচী চক্রবর্তী, রাজেশ শর্মা, ভূমি ব্যান্ডের সৌমিত্র রায়, কাঞ্চনা মৈত্র, সুব্রত বোস, খুদে শিল্পী শ্রেয়ান সহ আরো অনেকে।


দিকপাল অভিনেতাদের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?

- অসাধারণ অভিজ্ঞতা। প্রত্যেকেই নিজের বেস্টটা দিয়েছেন।  এছাড়া ভূমির সৌমিত্র-র প্রথম সিনেমা এটি। অন্যদিকে  কোন প্রথাগত অভিজ্ঞতা না থাকলেও দুর্দান্ত অভিনয়ে  সবার মন জয় করেছে  শ্রেয়ান।


জীবনে স্ট্রাগল দিয়ে পথ চলা শুরু। সিনেমায় পরিচালনা করাটা তাঁর কাছে অক্সিজেনের মত ।
'সাগর কিনারে', 'রণাঙ্গন','আপন শত্রু', 'ভুলভাল','ছিপ সুতো চার'- এর মত একাধিক গুনমান ছবি দর্শকদের উপহার দিলেও সর্বদা হাস্যমান সুশান্ত সাহার কন্ঠে রয়েছে কিছু আক্ষেপের সুর। তাঁর মতে ,"অন্যকে নকল করতে গিয়ে বাংলা ছবি আজ তাঁর নিজস্বতা হারাচ্ছে। এরফলে ভালো গল্পের দেখা মিলছে না। ক্রমশ গল্পের বাঁধন আলগা হচ্ছে,ফলস্বরূপ সিনেমার গুনগতমান কমে যাচ্ছে"।

আপনার পছন্দের পরিচালক ?

- আমার পছন্দের পরিচালকেরা হলেন তরুণ মজুমদার, সঞ্জয়লীলা বনশালী , রোহিত শেট্টি। এনাদের ছবি দেখে কিছু শেখা যায়।

আপনার পছন্দের অভিনেতা / অভিনেত্রী  ?

- অমিতাভ বচ্চন। ওনাকে নিয়ে আমার কাজ করার ইচ্ছা আছে। পাশাপাশি কমার্শিয়াল ছবির ক্ষেত্রে আমার পছন্দ বরুণ ধাওয়ান এবং রণবীর সিং-কে। আর পছন্দের অভিনেত্রী বলতে দীপিকা পাড়ুকোন , কঙ্গনা রানাওয়াত, আলিয়া ভাট-এর অভিনয় আমার সবথেকে প্রিয়।

আপনার কোন ড্রিম প্রজেক্ট ?

- সামনেই  একটি সিনেমা করার ইচ্ছে আছে। যার নাম 'অঙ্কুর' ।বলা ভালো এটি আমার ড্রিম প্রজেক্ট। এক অন্য ধরনের গল্প নিয়ে  বাচ্চাদের ছবি  । বিগ ক্যাস্টিং নিয়ে ছবি হবে। সম্ভবত শীতকালে  শ্যুটিং শুরু করার ইচ্ছা আছে ।পাশাপাশি কিছু ওয়েব সিরিজের  কথা চলছে।

পরিচালনায় না আসলে আপনি কি হতেন?

- অবশ্যই ডাক্তার হতাম।

আপনার  অনুগামীদের কি বলবেন ?

- ভালো সিনেমা দেখুন। সিনেমাকে উপভোগ করতে হলে অবশ্যই সিনেমাহলে গিয়ে সিনেমা দেখুন।

সামনেই দুর্গাপুজো, মায়ের কাছে কি চাইবেন ?

- প্রথমত, সবাই যেন সুস্থ থাকে এই কামনা করি।
দ্বিতীয়ত, সবাই যেন খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারে। আর সর্বশেষে , ইন্ডাস্ট্রির সুমতি হোক যাতে আমরা ভালো কাজ করতে পারি।


আপনাদের জানিয়ে রাখি , চলতি বছরে  ডিসেম্বরে  মুক্তি পেতে চলেছে সামাজিক বার্তাবহ ছবি 'সাক্ষী অ্যান আই উইটনেস'।

পরিচালক সুশান্ত সাহা, চলচ্চিত্র জগতের এক উজ্জ্বল নাম। সর্বদা স্পষ্টভাষী মানুষটি একদিকে তুলে ধরলেন
ইন্ডাস্ট্রির অন্ধকারময় সমস্যার কথা অন্যদিকে ছবির মাধ্যমে তিনি ছড়িয়ে দিতে চান সমাজে বার্তাবহ আলোর দিশা ।

Comments