গুরুপূর্ণিমা কেন পালন করা হয়?




'গুরুর্ব্রহ্মা গুরুর্বিষ্ণু গুরুর্দেবো মহেশ্বর

গুরুরেব পরং ব্রহ্ম তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ’

অর্থাৎ জীবনে গুরুই হলেন ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর।  তিনিই আমাদের সৃষ্টি-স্থিতি-লয়ের জ্ঞান বা পরম ব্রহ্মজ্ঞান দান করেন। সেই গুরুর উদ্দেশে প্রণাম জানাই।আগামীকাল অর্থাৎ ১৬ই জুলাই গুরু পূর্ণিমা।আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে গুরু পূর্ণিমা পালন করা হয়। এই দিনটি হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  'গুরু পূর্ণিমা' যার মধ্যে দিয়ে  শিষ্য তার গুরুকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এদিন সকালে স্নান করে শুদ্ধমনে যথাসাধ্য উপাচার দিয়ে গুরুপূজা করতে হয়। গুরু শব্দটি সংস্কৃতে 'গু'  এবং 'রু' শব্দের দ্বারা গঠিত। 'গু' শব্দের অর্থ হল অন্ধকার এবং' রু' শব্দের অর্থ আলো। অর্থাৎ যিনি অন্ধকারকে দূর করে জ্ঞানের আলো প্রদান করেন। 'গুরুপূর্ণিমা' দিনটিকে কেন্দ্র করে রয়েছে নানান পৌরাণিক কাহিনী।
ভারতের অনেক জায়গায়  গুরুপূর্ণিমার দিনে ঋষি পরাশর এবং মৎস্যগন্ধা সত্যবতীর সন্তান মহাঋষি বেদব্যাসের জন্মতিথি হিসেবেও পালন করা হয়।  তিনি ছিলেন । জন্মের পরে নিজের সন্তানকে  পরিত্যাগ করেন  সত্যবতী। এই সন্তানই মহাঋষিতে পরিণত হন। চতুর্বেদের সূচনা করেন তিনি।১৮টি পুরান সহ তিনি রচনা করেন মহাভারত।
কথিত আছে,  আদি গুরু মহাদেব  তাঁর প্রথম শিষ্য  'সপ্তর্ষি'-র  সাতজন ঋষি— অত্রি, বশিষ্ঠ, পুলহ, অঙ্গীরা, পুলস্থ্য, মরীচি এবং ক্রতু (নাম নিয়ে মতভেদ আছে)  এই তিথিতে আদিগুরুতে  মহাজ্ঞান প্রদান করেন।

বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের কাছে  গুরুপূর্ণিমা এক আলাদা মাত্রা যোগ করে। প্রচলিত মত অনুযায়ী ,   বোধিজ্ঞান লাভ করার পরে আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে উত্তরপ্রদেশের সারনাথে গৌতম বুদ্ধ প্রথম উপদেশ দেন।

যুগ যুগ ধরে গুরুপূর্ণিমার দিনে বিভিন্ন ধর্মীয় রীতি মেনে  আধ্যাত্মিক গুরুর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা গুরুকে  শ্রদ্ধা প্রদান করেন শিষ্যরা।

Comments