জন্মদিনে ফিরে দেখা অভিনেতা সঞ্জীব কুমারের কাহিনী
'শোলে'ছবির 'ঠাকুর বলদেও সিং' -কে মনে নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। অসাধারণ অভিনয়ের দক্ষতায় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন হরিহর জেটালাল জরিওয়ালা। অবাক হলে তো! হরিহর জেটলাল জরিওয়ালা ওরফে সঞ্জীব কুমার। এই ছদ্মনামে বলিউডে পরিচিত তিনি। গুজরাতের সুরাতে ১৯৩৮ সালে ৯ জুলাই জন্ম হয় একজন বিখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতার ।পরে সেখান থেকে মুম্বইয়ে সপরিবার চলে আসেন তিনি। ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের উপর টান ছিল তাঁর। করে ছোটবেলায় নাটকে হাতেখড়ি হয় তাঁর। মঞ্চের জনপ্রিয় মুখও ছিলেন তিনি। পরে পড়াশোনা শেষ করে
মুম্বই ইন্ডিয়ান পিপল’স থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন(আইপিটিএ)ও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল থিয়েটারের সদস্য হিসেবে যোগ দেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে আর্থার মিলারের ‘অল মাই সন্স’ নাটকে এক থুত্থুরে বুড়োর ভূমিকায় অভিনয় করে চমকে দেন দর্শকদের। এর ঠিক পরের বছর- এ কে হাঙ্গলের পরিচালনায় ‘দামরু’ নাটকে এক জন ষাট বছর বয়সির চরিত্রে অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দেন সঞ্জীব কুমার। এরপর থেকেই শুরু হল বলিউডের জীবন।
১৯৬০ সালে ‘হম হিন্দুস্থানি’ ছবি থেকে যাত্রা শুরু তাঁর। যদিও এই ছবিতে খুব ছোট চরিত্রে অভিনয় করলেও দর্শকদের মন কেড়ে নিতে সক্ষম হন তিনি। এরপর আসে সঞ্জীব কুমার অভিনীত ছবি ‘সংঘর্ষ’ ।
রোমান্টিক বা থ্রিলার কিংবা কমেডি ছবি সবেতেই তিনি সাবলীল । তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবিগুলি মধ্যে হল- খিলোনা (১৯৭০ ), ইয়েই হেই জিন্দগি, নতুন দিনা নাই রায়ত, দেবতা (১৯৭৮), ইত্তী সি বাট এবং অর্জুন পণ্ডিত (১৯৭৬),সীতা অউর গীতা’, ‘রাজা আউর রাঙ্ক’, ‘আপ কি কসম’ ‘ত্রিশূল’, ‘রাম তেরে কিতনে নাম’কাতাল, শিখর, উলজান এবং ত্রিশন। কুমার মানচালী, পটি পটানি আর ওহ, অ্যাঙ্গোয়ার, বিওয়াই ও বী ও হিরো, 'দস্তক’ বা ‘কোশিশ’ সীতা অউর গীতা’প্রভৃতি ছবিতে অসাধারণ অভিনয় নজর কেড়েছেন এই সুপারস্টার।
২৫ বছরের ক্যারিয়ারে গুজরাটি, মারাঠি, পাঞ্জাবিসহ ভারতের বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক ভাষার ছবিতে অভিনয় করেছেন।
হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায় নির্দেশিত ‘অর্জুন পণ্ডিত’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার পুরষ্কারও লাভ করেন। ফোর্বস’-এর বিচারে ‘আঙ্গুর’ ছবিতে তাঁর দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় ভারতীয় ছবির সেরা ২৫টি পারফর্ম্যান্সের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে।
সারাজীবন অবিবাহিত থাকলেও শোনা যায় ১৯৭৩ সালে অভিনেত্রী হেমা মালিনীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। যদিও চার বছরে এই সম্পর্কে ইতি পড়ে। পরবর্তীক্ষেত্রে অভিনেত্রী সুলক্ষ্মণা পণ্ডিত তাঁর প্রেমে পড়েন এবং বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও নিজের শারীরিক অসুস্থতার কারণে সঞ্জীব সম্মতি দেননি। সঞ্জীবকে না পেয়ে সুলক্ষ্মণাও চিরকাল অবিবাহিত থেকে যান।
হার্টের সমস্যা নিয়েই জন্মেছিলেন এই জনপ্রিয় তারকা। এই সমস্যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ বাড়তে থাকে । ফলে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন এই অভিনেতা। প্রথম হার্ট অ্যাটাকের পর আমেরিকাতে অস্ত্রোপচারও হলেও পরে দ্বিতীয় বারের অ্যাটাকের ধাক্কাটা আর সামলাতে পারেননি তিনি। মাত্র ৪৭ বছর বয়সেই ১৯৮৫ সালের ৬ নভেম্বর চিরকালের মত ঘুমের দেশে পাড়ি দেন সঞ্জীব কুমার। তার অভিনীত সর্বশেষ ছবি ‘প্রফেসর কি পাড়োসান’ মুক্তি পায় ১৯৯৩ সালে।
২০১৪সালে ১৪ই ফেব্রুয়ারি গুজরাত রাজ্যের সুরাটে সঞ্জীব কুমারের নামে একটি মিলনায়তনের উদ্বোধন করেন সে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এবং ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি প্রথম ভারতীয় অভিনেতা যার নামে কোনো মিলনায়তনের নামকরণ করা হয়। সুরাটে তার নামে একটি স্কুল এবং একটি সড়কেরও নামকরণ করা হয়েছে।
২০১৩ সালের ৩রা মে ভারতের ডাক বিভাগ তার সম্মানে একটি ডাকটিকিট প্রকাশ করে। সঞ্জীব কুমার জীবিত অবস্থায় সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাই তার স্মৃতিতে ' সঞ্জীব কুমার ফাউন্ডেশন' সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে কাজ করে চলেছে।বলিউডের ষাট-সত্তরের দশকের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র সঞ্জীব কুমার।অভিনয় প্রতিভার জন্য বলিউডের দর্শকের স্মৃতিতে চিরজীবী হয়ে আছেন।আজ তাঁর জন্মদিন ।







Comments
Post a Comment